Sunday, 26 July 2026

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

সর্বশেষ

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০...

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে...

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, আমাদের যেমন ঈমানের অঙ্গ এবং মানুষ হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব : ওয়াসার এমডি

‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এবং একটি সুন্দর...

আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে স্বপন দাশগুপ্ত...

আরও পড়ুন

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০...

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে...

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, আমাদের যেমন ঈমানের অঙ্গ এবং মানুষ হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব : ওয়াসার এমডি

‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এবং একটি সুন্দর...