চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার ১৩.২২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূলত মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের আশঙ্কাজনক ফলাফলের কারণেই সামগ্রিক ফলে এই রেকর্ড অবনতি হয়েছে।
১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। গত বছর (২০২৫ সালে) এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২.৭০ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। পাসের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার মোট ৯ হাজার ৬৯৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এবার ছেলেদের পাসের হার ৫৮.৭৬ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০.০৩ শতাংশে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগের চরম ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে। যেখানে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪.৪১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০.১২ শতাংশ, সেখানে মানবিক বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৮.৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
অঞ্চলভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৮১.০৩ শতাংশ। শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যকার এই ব্যবধান সার্বিক ফলাফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পরিসংখ্যানও এবার বেশ নিম্নমুখী। গত বছর শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৩টি থাকলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। তবে এই বিপর্যয়ের মাঝেও চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদ নগর এলাকার ‘হলি হক স্কুল’ শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বোর্ডের অধীনে থাকা ৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
বোর্ডের সামগ্রিক ফলে বিপর্যয় ঘটলেও নগরীর ঐতিহ্যবাহী ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করা শিক্ষার্থীদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। ফলাফল প্রকাশের পরপরই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (বাওয়া) এবং হলি হক স্কুলের প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মিষ্টি বিতরণ ও বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সফল হওয়া সকল শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একই সাথে যারা আশানুরূপ ফল পায়নি, তাদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও জোরালো প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বোর্ড কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফল বিপর্যয়ের মূল কারণগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে তদারকি ও তদারকিমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
