চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে মোঃ নুরুল ইসলাম ইরান (৫০) নামে এক মাদককারবারী নিহত হয়েছেন। এসময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে এতে ১৭ টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত দুইটার সময় উপজেলার ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে। নিহত ইরান ওই গ্রামের নুর আহমদের নতুন বাড়ির মৃত নুর আহমেদের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত মাদক কারবারি নুরুল ইসলাম ইরান একজন চিহ্নিত কারবারী বলে জানান পুলিশ ও গ্রামবাসী। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় দুইটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন ইরান। গত ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা ব্যবসার বিরোধে ইরানের সহযোগী নাইম (৩০) নামে এক যুবককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নাঈমে বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে ইরানকে প্রধান আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নাঈমের মৃত্যুর পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার নাঈমের জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নুরুল ইসলামকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এরপর তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই বাড়ির ১৭টি বসতঘর, তিনটি মোটর সাইকেল, একটি সিএনজি অটোরিকশা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এদিকে গণপিটুনিতে শীর্ষ মাদককারবারী ইরানের মৃত্যুর পর পুরো গ্রামে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বলে জানান গ্রামবাসী। তারা জানা ৫ আগষ্টের পর থেকে নুরুল ইসলাম ইরান গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার ভয়ে কেউ টুশব্দ করার সাহস পেতো না। তার ছেলে রিফাত বলেন, আমার বাবা একজন চিহ্নিত মাদককারবারী ছিলেন। পুরো গ্রামবাসী উনার কাছে জিম্মি ছিলেন। তাকে সৎ পথে আনার জন্যে অনেক চেষ্টা করছি। গণপিটুনীতে তার মৃত্যু হয়েছে এতে আমাদের পরিবারের কোন দূঃখ নেই। কিন্তু একজন অপরাধীর কারণে অন্তত ১৭টি বসতঘর কেন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সবাইতো অপরাধী নয়।
নিহত ইরানের স্ত্রী খালেদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নাঈমকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। তিনি বলেন, “আমার স্বামী অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া কেন ?
সীতাকুণ্ড মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, নাঈম হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে গণপিটুনিতে ইরানের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
